ঢাকার ধুলা আর আর্দ্রতায় এসি বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং না করালে ঠান্ডা কমে, বিল বাড়ে আর গরমের মাঝখানে নষ্ট হয়। কখন করাবেন, সার্ভিসিংয়ে ঠিক কী কী হয়, নিজে কতটুকু করতে পারেন আর কারিগরকে কী জিজ্ঞেস করবেন – এই গাইডে।
কেন গরমের আগেই?
ঢাকায় এপ্রিল থেকে এসির চাহিদা আকাশছোঁয়া – ঠিক তখনই এসি মিস্ত্রিদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়, সিরিয়াল পেতে দু-তিন দিন লাগে, আর তাড়াহুড়োর কাজে মান কমে। ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে সার্ভিসিং করালে কারিগর সময় নিয়ে কাজ করতে পারেন, আর গরম শুরুর প্রথম দিনেই এসি পুরো ক্ষমতায় চলে।
দ্বিতীয় কারণ শীতের জমা ময়লা। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এসি প্রায় বন্ধ থাকে; এই সময়ে ফিল্টার আর কয়েলে ধুলা জমে, ড্রেন পাইপে ছত্রাক হয়, আউটডোর ইউনিটে পাখির বাসা বা পাতা আটকে যায়। চালু করার আগে এগুলো পরিষ্কার না করলে প্রথম সপ্তাহেই ঠান্ডা কম আর ভ্যাপসা গন্ধের অভিযোগ আসে।
সার্ভিসিংয়ে ঠিক কী কী করা হয়
“সার্ভিসিং” বলতে শুধু ফিল্টার ধোয়া নয়। একজন ভালো কারিগর সাধারণত এই ধাপগুলো করেন – কাজ শেষে এগুলো হয়েছে কি না মিলিয়ে নিন:
- ইনডোর ইউনিটের ফিল্টার, ইভাপোরেটর কয়েল ও ব্লোয়ার ফ্যান পানি/প্রেশার দিয়ে ধোয়া (কয়েল ক্লিনার দিয়ে আরও ভালো)
- আউটডোর ইউনিটের কনডেনসার কয়েল ও ফ্যান পরিষ্কার – এখানেই সবচেয়ে বেশি ধুলা জমে
- ড্রেন লাইন ফ্লাশ করা, যাতে পানি পড়ার সমস্যা না হয়
- গেজ দিয়ে গ্যাসের প্রেশার দেখা – কম থাকলে লিক টেস্ট, শুধু গ্যাস ভরা নয়
- কম্প্রেসর ও ফ্যানের কারেন্ট (অ্যাম্পিয়ার) মাপা, ক্যাপাসিটর পরীক্ষা
- ইলেকট্রিক কানেকশন, ব্রেকার ও স্টেবিলাইজার দেখা; কপার পাইপের ইনসুলেশন ঠিক আছে কি না
- রিমোটের ব্যাটারি, থার্মোস্ট্যাট ও মোড সেটিং যাচাই
নিজে কতটুকু করতে পারেন
মাসে একবার ফিল্টার খুলে কলের পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে লাগানো – এটুকু নিজে করলে কয়েলে ময়লা অনেক কম জমে, সার্ভিসিংয়ের ফাঁক বাড়ে। ইনডোর ইউনিটের বাইরের অংশ শুকনো কাপড়ে মোছা আর আউটডোর ইউনিটের চারপাশে পাতা-প্লাস্টিক সরানোও নিরাপদ।
যা করবেন না: কয়েলে সরাসরি পানি ঢালা (পিসিবি ভিজে যায়), গ্যাসের ক্যান কিনে নিজে ভরার চেষ্টা, আর আউটডোর ইউনিট খোলা। রেফ্রিজারেন্ট চাপে থাকে, চামড়ায় লাগলে ফ্রস্টবাইট হয়; আর ভুল গ্যাস মেশালে কম্প্রেসর নষ্ট হতে পারে – সেটা সার্ভিসিংয়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি খরচ।
কখন সার্ভিসিং যথেষ্ট নয়
কিছু লক্ষণ থাকলে শুধু ওয়াশ-সার্ভিসিংয়ে কাজ হবে না, আগেই কারিগরকে জানান যাতে তিনি সরঞ্জাম নিয়ে আসেন: পাইপে বরফ জমা বা ঠান্ডা একেবারে কম (গ্যাস লিক), কম্প্রেসর বারবার বন্ধ হওয়া (ক্যাপাসিটর/ভোল্টেজ), পোড়া গন্ধ (ওয়্যারিং), আর ইনভার্টার এসিতে এরর কোড (পিসিবি/সেন্সর)।
এসি ৮–১০ বছরের বেশি পুরোনো হলে আর প্রতি বছর গ্যাস ভরতে হলে বড় লিক আছে – বারবার গ্যাস ভরার চেয়ে লিক মেরামত করানো, বা পুরোনো নন-ইনভার্টার এসি বদলানো, দীর্ঘমেয়াদে সস্তা হতে পারে। সৎ কারিগর এই হিসাবটা বলে দেন।
কারিগর ডাকার আগে যা জানবেন
আমার কারিগর অ্যাপে “এসি” ক্যাটাগরিতে কাছের কারিগরদের দেখুন – Verified ব্যাজ, রেটিং, সম্পন্ন কাজ আর “সাধারণত কত খরচ হয়” একসঙ্গে। চ্যাটে এই তথ্যগুলো লিখে দিন, তাহলে ফোনেই মোটামুটি খরচ জেনে যাবেন:
- এসির ব্র্যান্ড, টন (১/১.৫/২), স্প্লিট না উইন্ডো, ইনভার্টার কি না
- কত বছর পুরোনো, শেষ সার্ভিসিং কবে
- কোনো লক্ষণ আছে কি না – ঠান্ডা কম, পানি পড়া, শব্দ, এরর কোড
- আউটডোর ইউনিট কোথায় – বারান্দা, কার্নিশ, ছাদ (কাজের ঝুঁকি ও সময় বদলায়)
- কয়টা এসি – একসঙ্গে একাধিক হলে অনেকে ইউনিটপ্রতি কম নেন
খরচ নিয়ে সৎ কথা
আমরা কোনো নির্দিষ্ট দাম বলি না, কারণ সার্ভিসিং, গ্যাস টপ-আপ, লিক মেরামত আর যন্ত্রাংশ – প্রতিটি একেবারে আলাদা কাজ, আর টন ও অবস্থান অনুযায়ী শ্রম বদলায়। অ্যাপে প্রতিটি কারিগরের প্রোফাইলে তাঁর আগের সম্পন্ন কাজের ভিত্তিতে “সাধারণত কত খরচ হয়” দেখানো হয় (অন্তত ৫টি কাজ থাকলে) – সেটা দেখে তুলনা করুন, আর চূড়ান্ত দাম কাজ শুরুর আগে চ্যাটে লিখিয়ে নিন। কাজ শেষে খরচটা অ্যাপে লিখে রাখলে পরের গ্রাহক সঠিক ধারণা পাবেন।
- ফেব্রুয়ারি–মার্চে সার্ভিসিং করান; এপ্রিলে কারিগর পাওয়া কঠিন।
- সার্ভিসিং মানে ইনডোর + আউটডোর কয়েল, ড্রেন, গ্যাস প্রেশার ও কারেন্ট – শুধু ফিল্টার নয়।
- ফিল্টার মাসে একবার নিজে ধুতে পারেন; গ্যাস কখনো নিজে ভরবেন না।
- গ্যাস কম মানে লিক আছে – আগে লিক টেস্ট, তারপর গ্যাস।
- চ্যাটে ব্র্যান্ড, টন, বয়স ও লক্ষণ লিখে দিলে খরচের ধারণা আগেই পাবেন।